কিন্তু বাংলাদেশে সোনার বিমা নিয়ে সচেতনতা খুব কম। অনেকে জানেনই না যে এটা করা সম্ভব।
বাংলাদেশে সোনার বিমা কি আছে?
আছে, তবে সরাসরি 'গোল্ড ইন্স্যুরেন্স' নামে আলাদা পণ্য বেশিরভাগ কোম্পানিতে নেই। সোনার গহনা বিমা সাধারণত দুটো উপায়ে করা যায়:
১. গৃহস্থালি বিমার অংশ হিসেবে (Household/Home Insurance)বাড়ি বিমা বা সম্পত্তি বিমার অধীনে গহনা অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সাধারণত মোট বিমার একটা নির্দিষ্ট অংশ গহনার জন্য বরাদ্দ থাকে।
২. ভ্যালুয়েবলস ইন্স্যুরেন্সকিছু বেসরকারি বিমা কোম্পানি আলাদাভাবে মূল্যবান সম্পদের বিমা করে।
কোন বিমা কোম্পানিগুলো করে?
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান বেসরকারি বিমা কোম্পানি এই সেবা দেয়:
- ▸গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স
- ▸প্রগতি ইন্স্যুরেন্স
- ▸রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স
- ▸পিপলস ইন্স্যুরেন্স
প্রিমিয়াম কত?
গহনার বিমায় সাধারণত বার্ষিক প্রিমিয়াম গহনার বাজারমূল্যের ০.৫% থেকে ১.৫% পর্যন্ত হয়।
উদাহরণ: ১০ লাখ টাকার গহনার বিমায় বার্ষিক প্রিমিয়াম ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা।
বিমার পরিমাণ বাড়লে প্রতি লাখের হিসাবে প্রিমিয়াম একটু কম হয়।
কী কী ক্ষয়ক্ষতি কভার হয়?
সাধারণত যা কভার হয়:
- ▸চুরি ও ডাকাতি
- ▸আগুন ও বন্যা
- ▸ভূমিকম্পজনিত ক্ষতি
- ▸দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ক্ষয়ক্ষতি
- ▸নিজের গাফিলতিতে হারানো (রাস্তায় ফেলে আসা)
- ▸অনুষ্ঠানে অন্যকে পরতে দিয়ে হারানো
- ▸গহনার স্বাভাবিক ক্ষয়
বিমা করার জন্য কী লাগবে?
- ▸গহনার মূল ক্রয়ের রশিদ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
- ▸গহনার স্পষ্ট ছবি (সব কোণ থেকে)
- ▸জুয়েলার বা প্রত্যয়িত মূল্যায়নকারীর মূল্যায়ন সার্টিফিকেট
- ▸জাতীয় পরিচয়পত্র
দাবি করলে কতটুকু পাবেন?
দাবি করলে সাধারণত দুটো পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়:
১. চুরি হওয়ার দিনের বাজারমূল্য ২. মূল বিমার পরিমাণযেটা কম, সেটা পাবেন। তাই বিমার পরিমাণ গহনার বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর আপডেট করুন।
সোনার দাম বাড়ার সাথে সাথে বিমার পরিমাণ না বাড়ালে বাস্তবিক ক্ষতিপূরণ কম পাবেন। আজকের দাম দেখে বছরে একবার হিসাব মিলিয়ে নিন।
বাস্তব পরামর্শ
যদি আপনার কাছে ৫ ভরির বেশি সোনা থাকে এবং সেটা বাড়িতে রাখেন, বিমা করা উচিত। প্রিমিয়ামের খরচ সোনার মূল্যের তুলনায় খুব নগণ্য।
কিন্তু বিমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপদ সংরক্ষণ। ব্যাংক লকারে রাখলে বিমার প্রয়োজনীয়তাই কমে যায়।