কিন্তু গোল্ড লোনের খুঁটিনাটি না জানলে ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা আছে।
গোল্ড লোন কীভাবে কাজ করে?
আপনি ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সোনা জমা দেন। তারা সোনার মূল্যের একটা অংশ (সাধারণত ৬০-৮০%) আপনাকে ঋণ হিসেবে দেয়। আপনি সুদসহ ঋণ শোধ করলে সোনা ফেরত পান। না পারলে সোনা বিক্রি করে ব্যাংক টাকা তুলে নেয়।
এটা মূলত সিকিউরড লোন — সোনাটাই জামানত।
বাংলাদেশে কোথায় গোল্ড লোন পাওয়া যায়?
সরকারি ব্যাংক: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক — এগুলোতে গোল্ড লোনের ব্যবস্থা আছে। সুদের হার তুলনামূলক কম (১০-১২%), কিন্তু প্রক্রিয়া একটু ধীর। বেসরকারি ব্যাংক: ডাচ-বাংলা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ অনেক বেসরকারি ব্যাংক গোল্ড লোন দেয়। প্রক্রিয়া দ্রুত, কিন্তু সুদ একটু বেশি (১২-১৬%)। এনজিও ও মাইক্রোফাইন্যান্স: গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সসহ কিছু সংস্থা ছোট পরিমাণের গোল্ড লোন দেয় গ্রামীণ পর্যায়ে। সুদমুক্ত বিকল্প — ইসলামী ব্যাংক: শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো সুদের বদলে মুরাবাহা বা ইজারা পদ্ধতিতে গোল্ড লোন দেয়। সার্ভিস চার্জ আলাদাভাবে নেওয়া হয়।কতটুকু ঋণ পাবেন?
এটা নির্ভর করে সোনার বর্তমান বাজারমূল্যের উপর। ব্যাংক সাধারণত ৬০-৮০% LTV (Loan to Value) দেয়।
উদাহরণ: আজকের দামে ৫ ভরি ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ধরুন ১০ লাখ টাকা। তাহলে ৭০% LTV তে পাবেন ৭ লাখ টাকা।
আজকের দাম দেখে নিজেই হিসাব করুন আপনার সোনার বিপরীতে কতটুকু ঋণ পেতে পারেন।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণত যা লাগে:
- ▸জাতীয় পরিচয়পত্র
- ▸পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- ▸সোনার মূল ক্রয়ের রশিদ (থাকলে)
- ▸ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
সতর্কতা — যা অবশ্যই মনে রাখবেন
সুদ জমতে দেবেন না। গোল্ড লোনে সুদের হার মাসিক হিসাবে কাটা হয়। ঋণ না শোধ হলে সুদের উপর সুদ জমে বড় পরিমাণ হয়ে যায়। লোনের মেয়াদ খেয়াল রাখুন। সাধারণত ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত। মেয়াদ শেষে নবায়ন করতে হয়, নইলে সোনা বিক্রি হয়ে যেতে পারে। বাজারমূল্য পড়লে সতর্ক থাকুন। সোনার দাম হঠাৎ অনেক কমলে ব্যাংক 'মার্জিন কল' করতে পারে — অতিরিক্ত সোনা জমা দিতে বলতে পারে। অনানুষ্ঠানিক মহাজনের কাছে যাবেন না। গ্রামে এখনো এমন লোক আছে যারা সোনা বন্ধক রেখে চড়া সুদে ঋণ দেয়। এই ফাঁদে পড়লে সোনা হারানোর ঝুঁকি বেশি।গোল্ড লোন বনাম সোনা বিক্রি — কোনটা ভালো?
যদি টাকার দরকার অস্থায়ী — যেমন এক-দুই বছরের মধ্যে ফেরত দিতে পারবেন — তাহলে বন্ধক রাখুন।
কিন্তু যদি নিশ্চিত না থাকেন কখন ফেরত দিতে পারবেন, তাহলে সোনা বিক্রি করে দেওয়াই নিরাপদ। কারণ সুদ জমতে থাকলে এক পর্যায়ে সোনার মূল্যের চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হতে পারে।
পাকা পরতা ক্যালকুলেটর দিয়ে বিক্রি করলে কত পাবেন সেটা আগে হিসাব করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।