মজুরি কীভাবে হিসাব করা হয়?
বাংলাদেশে মজুরি সাধারণত দুইভাবে নেওয়া হয়:
ভরি হিসাবে: প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ। যেমন প্রতি ভরিতে ৩,০০০ টাকা মজুরি হলে ২ ভরির গহনায় ৬,০০০ টাকা মজুরি। গ্রাম হিসাবে: হালকা গহনায় এভাবে নেওয়া হয়। প্রতি গ্রামে ২৫০-৩০০ টাকা মানে ১১.৬৬ গ্রামে (১ ভরি) প্রায় ৩,০০০ টাকা।ডিজাইনভেদে মজুরির পার্থক্য
মজুরি নির্ভর করে ডিজাইনের জটিলতার উপর।
সাদামাটা ডিজাইন (চিকন হার, সরল আংটি): প্রতি ভরিতে ১,৫০০-২,৫০০ টাকা মাঝারি ডিজাইন (ফুলকাটা, টুইস্টেড): প্রতি ভরিতে ২,৫০০-৪,০০০ টাকা ভারি ডিজাইন (কুন্দন, ফিলিগ্রি, পাথর বসানো): প্রতি ভরিতে ৪,০০০-৮,০০০ টাকা বা তার বেশি হাতে তৈরি (হ্যান্ডমেড): এখানে মজুরি অনেক বেশি হতে পারে কারণ কারিগর দক্ষতার মূল্য আলাদা।কোন জিনিসে মজুরি বেশি নেওয়া হয়?
কিছু গহনায় কারিগরি কাজ কম হলেও মজুরি বেশি চাওয়া হয় — কারণ ক্রেতা বুঝতে পারেন না।
চুড়িতে মজুরি তুলনামূলক কম হওয়া উচিত, কারণ ডিজাইন সাধারণত সরল। কানের দুলে পাথর বসানো থাকলে মজুরি বেশি নেওয়া হয় — এটা ন্যায্য। নাকফুলে ওজন কম কিন্তু মজুরি কখনো কখনো অস্বাভাবিক বেশি।মজুরিতে দরদাম কি করা যায়?
হ্যাঁ, করা যায়। বিশেষত:
- ▸একসাথে বেশি গহনা কিনলে
- ▸পুরনো সোনা বিনিময় দিলে
- ▸পরিচিত দোকানে নিয়মিত কিনলে
মজুরি বিক্রির সময় ফেরত পাওয়া যায় না
এটা অনেকে ভুলে যান। পুরনো গহনা বিক্রি বা বিনিময় করলে মজুরির টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। শুধু সোনার মূল্য (পাকা পরতা বাদে) পাবেন।
তাই গহনা বিনিয়োগ হিসেবে কিনলে সাদামাটা ডিজাইনে বেশি ওজনের গহনা কেনা বুদ্ধিমানের। ডিজাইনের পেছনে বেশি মজুরি খরচ করলে পরে লোকসান বেশি হবে।
বিল ক্যালকুলেটর দিয়ে মজুরি যোগ করে আজকের বাজারে যেকোনো পরিমাণ সোনার মোট দাম হিসাব করুন।