সনাতনী সোনা বলতে কী বোঝায়?
সনাতনী মানে ঐতিহ্যগত। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি সোনার গহনাকে সনাতনী বলা হয়। এই পদ্ধতিতে সোনা গলিয়ে তার সাথে তামা ও অন্যান্য ধাতু মেশানো হয় — মূলত গহনাকে শক্ত করতে।
সনাতনী সোনার বিশুদ্ধতা সাধারণত ৮০-৮৫% এর মধ্যে থাকে। এটা ঠিক ২১ ক্যারেট না, আবার ১৮ ক্যারেটও না — মাঝামাঝি একটা জায়গায়।
কেন এখনো সনাতনী সোনা প্রচলিত?
পারিবারিক ঐতিহ্য: অনেক পরিবারে পুরুষানুক্রমে সনাতনী গহনা চলে আসছে। দাদির গহনা, মায়ের গহনা — এই ধারাবাহিকতায় সনাতনী ছাড়া মনে হয় না। স্থায়িত্ব: সনাতনী গহনায় সাধারণত বেশি অ্যালয় থাকে, ফলে শক্ত হয়। দৈনন্দিন ব্যবহারে ভাঙার ভয় কম। ডিজাইন: পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন — যেমন ঢাকার ধামাধরা চুড়ি, রাজশাহীর ঘুঙুর, চট্টগ্রামের চন্দ্রহার — এগুলো সনাতনী পদ্ধতিতে তৈরি। কম দাম: ২২ ক্যারেটের চেয়ে সনাতনীর দাম কম। তাই বাজেট কম হলে বেশি পরিমাণ গহনা নেওয়া যায়।সনাতনীর সমস্যা কী?
হলমার্ক নেই। সনাতনী সোনার কোনো নির্দিষ্ট হলমার্ক নেই কারণ বিশুদ্ধতা স্থির না — দোকানভেদে, কারিগরভেদে আলাদা হয়।
পরে বিক্রিতে সমস্যা। সনাতনী সোনা পরে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতা কম পাওয়া যায়। ব্যাংক এই সোনার বিপরীতে লোন দিতে আগ্রহী না।
বিনিয়োগ হিসেবে দুর্বল। ক্যারেট অনিশ্চিত হওয়ায় এটা বিনিয়োগের জন্য ভালো না।
তাহলে কে কেনে সনাতনী?
মূলত যারা গহনাটাকে পরার জিনিস মনে করেন, বিনিয়োগ নয়। পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে চান। বা নির্দিষ্ট ডিজাইন যেটা শুধু সনাতনী পদ্ধতিতে তৈরি হয়।
সনাতনী কেনার আগে যা জানবেন
কোন দোকান থেকে কিনছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটু বেশি দাম দিয়ে পরিচিত ও বিশ্বস্ত জুয়েলার থেকে কিনুন।
কেনার সময় জিজ্ঞেস করুন বিশুদ্ধতা কতটুকু। যদিও হলমার্ক নেই, একজন সৎ জুয়েলার আনুমানিক বিশুদ্ধতা বলতে পারবেন।
ভবিষ্যতে বিক্রির পরিকল্পনা থাকলে সনাতনীর বদলে ২২ ক্যারেট কিনুন।
আজকের সনাতনী সোনার দাম দেখুন এবং একক রূপান্তর ক্যালকুলেটর দিয়ে গ্রাম বা আনায় হিসাব করুন।